
ফেইসবুকে সঠিক অডিয়েন্সের ব্যবহার
ফেইসবুকে সঠিক অডিয়েন্সের ব্যবহার এডস থেকে ভাল ফলাফল নিয়ে আসবে। সঠিক অডিয়েন্স সিলেক্ট করা একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ। তবে যদি সঠিকভাবে এটি করতে পারেন তাহলে এডস থেকে সহজেই ভালো পারফর্মেন্স নিয়ে আসতে পারবেন।ফেইসবুক এডসের জন্য সাধারণত এডস ম্যানেজার থেকে ৩ ধরনের অডিয়েন্স তৈরি করা যায়।
- কোর অডিয়েন্স
- কাস্টম অডিয়েন্স
- লুক এ লাইক অডিয়েন্স
১। কোর অডিয়েন্সঃ এডস দেবার সময় যখন আপনি সরাসরি নিজের পচ্ছন্দ মত স্থান, বয়স, লিঙ্গ, ইন্টারেস্ট, বিহেভিয়ার, ডেমগ্রাফিক দিয়ে এডস পরিচালনা করেন, তখন এই অডিয়েন্সকে কোর অডিয়েন্স বলা হয়। যা মূলত ফেইসবুকের সকল ব্যবহারকারীদের মধ্যে থেকে আপনার টার্গেটকে মিলিয়ে সঠিক অডিয়েন্সের কাছে আপনার এডস পরিচালনা করে থাকে। ফেইসবুকের সকল ব্যবহারকারীদের থেকে অডিয়েন্স পচ্ছন্দ করতে হয়, এজন্য এটিকে কোর অডিয়েন্স বলে। প্রাথমিকভাবে এডস পরিচালনা করতে গেলে মূলত এই ধরনের অডিয়েন্স নিয়ে কাজ করতে হয়। এটি ফেইসবুকের সব থেকে প্রচলিত এবং বহুল ব্যবহৃত অডিয়েন্স।
২। কাস্টম অডিয়েন্সঃ আপনি আপনার ইচ্ছামত নিজের ডাটা সোর্সের উপর ভিত্তি করে যে অডিয়েন্স তৈরি করেন তাকে কাস্টম অডিয়েন্স বলা হয়।
যেমনঃ আপনি ফেইসবুকে একটি ভিডিও পাবলিশ করেছেন, যেটি অনেক মানুষ দেখেছে। এখন আপনি চাচ্ছেন যারা এই ভিডিও দেখেছে শুধু তাদেরকে টার্গেট করে আপনার একটি এডস দেখাবেন, সেটা হচ্ছে ফেইসবুকে আপনার কাস্টম অডিয়েন্স। এখানে ভিডিওটি হচ্ছে ডাটা সোর্স, আর যারা ভিডিওটি দেখেছে তারা হচ্ছে কাস্টম অডিয়েন্স।
কাস্টম অডিয়েন্সের ডাটা সোর্স মূলত দুই প্রকার।
- ফেইসবুকের নিজস্ব ডাটা সোর্সঃ যদি ফেইসবুকের পোপার্টি থেকে ডাটা সোর্স করা হয় তবে সেটিকে ফেইসবুকের নিজস্ব ডাটা সোর্স বলা হয়ে থাকে। ফেইসবুকের নিজস্ব ডাটা সোর্সসমূহঃ
a. Video
b. Lead Form
c. Instant Experience
d. Facebook Shopping
e. Facebook Page
f. Facebook event
g. Instagram Account
h. On-Facebook listing
i. Augmented Reality
ফেইসবুকের এই ডাটা সোর্স গুলো থেকে অডিয়েন্সের সর্বনিম্ন ৩০ দিন থেকে
সর্বোচ্চ ৩৬৫ দিনের যেকোন এক্টিভিটি ট্রাক করে কাস্টম অডিয়েন্স তৈরি
করতে পারবেন।
- নিজস্ব ডাটা সোর্সঃ যদি আপনার নিজস্ব পোপার্টি থেকে ডাটা নিয়ে ফেইসবুকে কাস্টম অডিয়েন্স তৈরি করতে চান, তবে সেটি নিজস্ব ডাটা সোর্স হিসাবে ধরা হয়। ফেসবুক যেসব ডাটা সোর্স একসেপ্ট করে সেগুলো নিম্নরূপঃ
a. Customer List
b. Website Data
c. App Activity
d. Offline activity
e. Catalog activities
এই ডাটা সোর্সগুলো ব্যবহার করে সহজেই টার্গেটিং করতে পারবেন।
শুধুমাত্র কাস্টমার লিস্টের ক্ষেত্রে আপনাকে নূন্যতম ১০০০ জনের তথ্য দিয়ে
কাস্টম অডিয়েন্স তৈরি করতে হবে। কাস্টম অডিয়েন্স মূলত ব্যবসার রি-
মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহৃত হয়।
৩। লুক-এ-লাইক অডিয়েন্সঃ যদি বর্তমান অডিয়েন্সের তথ্যের অনুরূপ একই ধরনের মানুষদের টার্গেট করতে চান তবে তাকে লুক-এ-লাইক অডিয়েন্স বলা হয়। এটি নতুন অডিয়েন্স পেতে সহয়তা করবে। লুক-এ-লাইক অডিয়েন্স তৈরি করতে অবশ্যই একটি কাস্টম অডিয়েন্স থাকতে হবে।
যেমনঃ মনে করেন আপনার কাছে ২০০০ কাস্টমারের ডাটা আছে, আপনি তা ফেইসবুকে দিয়ে একটি কাস্টম অডিয়েন্স তৈরি করেছেন, এবং আপনি চান এই অডিয়েন্স গুলোর মত আরো যাদের বাংলাদেশে একই পার্সোনা রয়েছে, তাদেরকে টার্গেট করে এডস রান করবেন, তাহলে এই নতুন অডিয়েন্সকে লুক-এ-লাইক অডিয়েন্স বলে।
আপনার ব্যবসার জন্য নতুন অডিয়েন্স খুঁজে পেতে এটি একটি অন্যতম মাধ্যম হতে পারে।
কখন কোন ধরনের অডিয়েন্স ব্যবহার করা উচিত?
এটি আসলে ব্যবসার উপর নির্ভরশীল। তবে সব ব্যবসায় এপ্লাই করা যায় এর উপর ভিত্তি করে আমি একটি আইডিয়া শেয়ার করছি।
আইডিয়াঃ আপনার ব্যবসা একদমই নতুন এবং কোন নিজস্ব ডেটা সোর্স নেই। তাহলে আপনার উচিত ফেইসবুকের কোর অডিয়েন্স টার্গেট করে এডস রান করা। এতে যদি সেল আসে, তবে এটাই কন্টিনিউ করতে থাকেন। একটা সময় গিয়ে লক্ষ্য করবেন এডসের রেসপন্স কমে যাচ্ছে। অর্থাৎ এডস একই ব্যক্তিকে বারবার দেখাচ্ছে এবং তারা আর কিনতে চাচ্ছে না। কারণ একজন ব্যক্তি আপনার থেকে প্রতিদিন প্রোডাক্ট কিনবে না, তাই রেসপন্স কম পাচ্ছেন।
এখন লাস্ট কয়েক মাসে যারা আপনার পেইজের এডস দেখেছে বা কোন ভাবে এংগেজ হয়েছে তাদের নিয়ে একটি কাস্টম অডিয়েন্স তৈরি করেন। এরপর ফেইসবুক কোর অডিয়েন্স থেকে আগের মতন সব টার্গেটিং অপশন ঠিক রেখে এই কাস্টম অডিয়েন্সকে অডিয়েন্স গ্রুপ থেকে বাদ দিয়ে দিন। তাহলে যে আপনার থেকে পণ্য কিনেছেন তাদের আর ফেইসবুক এডস দেখাবে না। নতুন লোক এডস দেখবে এবং সেল বদ্ধি পাবে।
এবার আপনি ২ মাস পরে গিয়ে যারা আপনার থেকে পণ্য নিলো তাদেরে নিয়ে একটি কাস্টম অডিয়েন্স বানান এবং তাদের উপর বেসড করে একটি লুক-এ-লাইক অডিয়েন্স তৈরি করেন, তাহলে নতুন লোকদের কাছে পণ্য প্রচার করতে পাচ্ছেন এবং তাদের থেকে পণ্য নেবার সম্ভাবনা বেশী।
এবার আপনি লক্ষ করলেন কিছু পণ্য এখনো রয়ে গেছে, তাহলে লাস্ট ২-৩ মাসের সকল এডসে রেসপন্স করা ব্যাক্তিদের নিয়ে একটি কাস্টম অডিয়েন্স করে তাদের জন্য একটি অফার লন্স করেন। যেমনঃ ডেলিভারি ফ্রি, ডিস্কাউন্ট, BUY 1 GET 1 ইত্যাদি।
এভাবে ব্যবসার উপর ভিত্তি করে একেকভাবে আপনার ইচ্ছা অনুসারে অডিয়েন্স ট্রাই করতে পারেন।
অডিয়েন্স সাইকোলজিঃ
সাইকোলজির উপর তিন ধরনের অডিয়েন্স পাওয়া যায়।
- Cold Audience: যারা এখনো আপনার ব্যবসা বা সার্ভিস সম্পর্কে অবগত না, তারা মূলত কোল্ড অডিয়েন্স।
- Warm Audience: যারা আপনার ব্যবসা সম্পর্কিত কিন্তু এখনো কোন স্টেপ নেয় নি, তারা মূলত Warm Audience।
- Hot Audience: যারা এখনো আপনার ব্যবসা সম্পর্কে অবগত এবং ইতিমধ্যে প্রডাক্ট কিনেছে বা কেনার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে তারা মূলত Hot Audience।
চলুন ছোট বেলার একটি গল্পের মাধ্যমে অডিয়েন্স ব্যাপারটার উদাহরণ দেই।
রফিক, শফিক, সুমন তিন বন্ধু একসাথে বিজ্ঞান প্রাইভেট পরে। গতকাল শফিক প্রাইভেট থেকে ফেরার পথে রাস্তায় সাপখেলা দেখে এসেছে। আজকে প্রাইভেটে আসার সময় রাস্তায় সে তার বন্ধু সুমনকে ওই গল্পটি বলছিলো। তারপর তারা প্রাইভেটে পৌঁছে দেখে রফিক প্রাইভেটে আগেই চলে এসেছে এবং স্যার ইতিমধ্যে প্রাইভেট শুরু করে দিয়েছে। আর গল্প না করে তারা প্রাইভেট শুরু করে দিলো। প্রাইভেট শেষে রফিক আগেই বের হয়ে গেলো। শফিক এবং সুমন রাস্তা দিয়ে ফেরার পথে, সুমন শফিককে সাপখেলা দেখিয়ে বললো ওই যে সাপ খেলা! তুই নাকি সাপ খেলার ওইখানে গিয়ে কি যেন কিনবি? বলছিলি? যা গিয়ে কিনে নিয়ে আয়। আমি বাড়ি যাচ্ছি কাল দেখা হবে। শফিক গিয়ে সাপ খেলা যে দেখাচ্ছিলো তার কাছে থেকে পড়াশুনায় ভালো করা যায় এমন একটি তাবিজ কিনলো।
এই গল্পে রফিক হচ্ছে Cold Audience, সুমন হচ্ছে Warm Audience এবং শফিক হচ্ছে Hot Audience।
কোন অডিয়েন্সকে কি ধরনের এডস দেখানো উচিত?
- Cold Audience: Awareness Ads, Engagement Ads
- Warm Audience: Engagement Ads, Traffic Ads, Lead Ads, Sales Ads, Try Remarketing using Custom audience, Try Look a Like.
- Hot Audience: Conversion ads, Sales Ads, Offer Ads, and Product Announcement ads.
এডস ক্রিয়েটিভের পরে ফেসবুক এডসের অন্যতম গুরুতপূর্ন বিষয় হচ্ছে সঠিক অডিয়েন্স নির্বাচন করে তার কাছে এডস দেখানো। যদি এটি সঠিকভাবে করতে পারেন তাহলে এডস থেকে ভলো একটি ফলাফল পাবেন। অপরদিকে এটি সঠিক না হলে একটি ব্যর্থ এডস ক্যাম্পেইন করবেন, যা থেকে ভাল ফলাফল কখনই আসবে না।
আমি সবসময় চেষ্টা করি আমার লেখার মাধ্যমে বিষয়বস্তু গুলো সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে। আমার লেখা গুলো আপনাদের কেমন লাগে, কমেন্ট করে জানাবেন। এটি আমার লেখার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে। ভাল লাগলে শেয়ার করে অন্যকে জানার সুযোগ করে দিবেন।
আপনার ফেইসবুক এডস যেন সঠিকভাবে চালনা করতে পারেন, সেজন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইলো।


